Tuesday, February 23, 2016

দুনিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী ফ্রিগেট ২০১৬

পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী ১০টি ফ্রিগেট
যেকোনো দেশের নৌবাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে ফ্রিগেট। এ ধরণের জাহাজগুলোর এত গ্রহণযোগ্যতার বড় কারণ হিসেবে বলা যায় এদের সক্ষমতা, সংখ্যা, ব্যয় ইত্যাদিকে। বড় ডেস্ট্রয়ার বা ক্রুজ জাহাজগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ একাধিক ফ্রিগেট তাদের নৌবহরে রাখে সবসময়। সাধারণত ৩ থেকে ৭ হাজার টনি জাহাজগুলোকে বলা হয় ফ্রিগেট। তবে একাধিক ফ্রিগেট বহরে রাখা ও একই ডিজাইন ও শক্তিমত্তার দরুন এ সমস্ত ফ্রিগেটগুলোকে একত্রে “ফ্রিগেট ক্লাস” হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। দেশভেদে ফ্রিগেট ক্লাস আলাদা আলাদা।
একবিংশ শতাব্দীতে ডিজাইন এবং ব্যবহৃত হওয়া ফ্রিগেটগুলোর ওপর ভিত্তি করে এই র‍্যাঙ্কিংটা করা হয়েছে...
১। অ্যাডমিরাল গোরশকভ ক্লাস (রাশিয়া)
রাশান মেড সবচেয়ে সেরা উইপন ও সেন্সর নিয়ে রাশান নেভি ফ্লিটের অন্যতম সদস্য এই অ্যাডমিরাল গোরশকভ ক্লাস ফ্রিগেট রয়েছে শীর্ষস্থানে। অধিকাংশ ফ্রিগেটের শক্তির তারতম্য ঘটে সাধারণত সেকেন্ডারি রাডারে অথবা স্থলভাগে আক্রমণের দিকে। সেদিক থেকে দেখতে গেলে এই ক্লাসের ফ্রিগেটকে বলা যায় উইপন ও সেন্সর ব্যালেন্সের যথার্থ উদাহরণ। ফুললি লোডেড অবস্থায় ৫ হাজার টনি এই জাহাজগুলো রাশিয়ার হাতে রয়েছে ১টি। আরও ৩টি জাহাজ তৈরি করা হচ্ছে। সবমিলিয়ে এরকম ১৫টি জাহাজ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে রাশিয়ার।
২। সাখসেন ক্লাস (জার্মানি)
জার্মান নেভির জন্য তৈরি এই ফ্রিগেট ক্লাসকে বলা হয় লুটজেন্স ক্লাস ফ্রিগেটের উন্নততর রূপ। ২টি হেলিকপ্টার হ্যাঙ্গার সমৃদ্ধ এই ক্লাসের ফ্রিগেটগুলো মূলত তৈরি করা হয়েছে আকাশ পথের যুদ্ধের জন্য। ৫৮০০ টনি এই জাহাজগুলোর মধ্যে আপাতত সার্ভিসে আছে ৩টি জাহাজ।
৩। ডি জেভেন প্রোভিন্সিয়েন ক্লাস (নেদারল্যান্ডস)
এয়ার ডিফেন্স ফ্রিগেট ক্লাসের মধ্যে একে বলা যায় সবচেয়ে আধুনিক। ৬ হাজার টনি এই জাহাজগুলোর রয়েছে শক্তিশালী রাডার ও মিসাইল সিস্টেম যা এদেরকে মূলত টহল, নজরদারির কাজে দিয়েছে অসামান্য অবস্থান। অ্যান্টি ব্যালিস্টিক মিসাইল সক্ষমতার জন্য ন্যাটোর মহড়াগুলোতে এদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বলা হয় যে প্রায় ৫০০ কিমি দূর থেকেও ব্যালিস্টিক মিসাইল ট্র্যাক ও ডিটেক্ট করার ক্ষমতা আছে এদের রাডারের।
৪। আইভার হুইটফেল্ট ক্লাস (ডেনমার্ক)
স্বল্পব্যয়ের সবচেয়ে আধুনিক ফ্রিগেটগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে এই ক্লাসের ফ্রিগেট। খরচ কমানোর সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে এ ক্ষেত্রে বলা যায় যে, ডেনিশ নেভি আসলে তাদের নিজেদেরই কিছু জাহাজকে মডিফাই করে ফ্রিগেটে রূপ দিয়েছে। সাধারণ আকার থেকে কিঞ্চিৎ বড় সাইজের ৬৬০০ টনি  এই ফ্রিগেটগুলো অস্ত্র ও গোলাবারুদে মোটামুটি ভারসাম্য বজায় রাখতে সক্ষম।
৫। আলভারো ডি বাজান ক্লাস (স্পেন)
আকাশ যুদ্ধে দুনিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী ফ্রিগেট ক্লাস হচ্ছে এরা। ৫টি জাহাজের সমন্বয়ে গঠিত এই ফ্রিগেট ক্লাসকে স্প্যানিশ নেভির অগ্রবর্তী দল হিসেবে দেখা হয়। অস্ট্রেলিয়ান ফ্রিগেটগুলোর মত ডিজাইন করা ৬৩০০ টনি এই জাহাজগুলোর কমব্যাট সিস্টেম ও রাডার বিশ্বমানের।
পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী ১০টি ফ্রিগেট (শেষ পর্ব)
৬। অ্যাকুয়ান্টাইন ক্লাস (ফ্রান্স)
জল, স্থল ও আকাশে যে কোন ক্ষেত্রে ১ হাজার কিমি দূর পর্যন্ত রেঞ্জে আক্রমণ চালানোর সক্ষমতার জন্য এই ফ্রিগেট ক্লাসকে বলা হয় দুনিয়ার সবচেয়ে ব্যালেন্সড ফ্রিগেট ক্লাস। ফ্রেঞ্চ নেভির মেরুদণ্ড হিসেবে বিবেচিত এই ক্লাসের অন্তত ১১টি ফ্রিগেট ২০২০ সালের আগেই সার্ভিসে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে ফ্রান্সের। এদের মধ্যে ৯টি হবে সব ক্ষেত্রে ব্যালেন্সড। আর বাকি দুটি হবে শুধুমাত্র আকাশপথে আক্রমণের জন্য প্রস্তুতকৃত। টোটাল ক্রু থাকবে মাত্র ১২০ জন।
৭। কার্লো বারগামিনি ক্লাস (ইটালি)
ফ্রাঙ্কো ইটালিয়ান ফ্রেম প্রোগ্রামের আওতায় তৈরি এই ক্লাসের ফ্রিগেটগুলোকে বলা হয় দুনিয়ার সবচেয়ে এডভান্সড ফ্রিগেটগুলোর মধ্যে অন্যতম। সাধারণ ব্যবহার ও সাবমেরিন মিশনের জন্য বিশেষভাবে তৈরি দুটি ক্যাটাগরিতে তৈরি হয় এই ফ্রিগেটগুলো। বহন করতে পারেন টোটাল প্রায় ৬৯০০ টন।
৮। ফ্রিটসজফ নান্সেন ক্লাস (নরওয়ে)
অত্যন্ত আধুনিক অস্ত্র সমৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও এই ক্লাসের ফ্রিগেটগুলো নিয়ে সবচেয়ে কম আলোচনা হয়। ৫৩০০ টনি এই ফ্রিগেটগুলোকে বলা যায় রয়্যাল নরয়েজিয়ান নেভির মূল।
৯। শিভালিক ক্লাস (ইন্ডিয়া)
সাবমেরিন বিধ্বংসী যুদ্ধে বিশেষায়িত এই ফ্রিগেটগুলোকে বলা চলে যেকোনো নৌযুদ্ধের জন্য সদা প্রস্তুত। বহন ক্ষমতা ৬২০০ টন।
১০। টাইপ ৫৪ এ (চীন)
মিতব্যয়ী মাত্র ৪২০০ টন বহন ক্ষমতার এই ফ্রিগেটগুলো ইদানীং চায়নিজ নেভির প্রয়োজন মেটাচ্ছে বহুলাংশেই। মূলত রাশান প্রযুক্তি ও চীনের একটু পরিবর্তনের একটা রূপ বলা যায় এগুলোকে। এখন পর্যন্ত ২৪টি জাহাজ সার্ভিসে রয়েছে।


  

No comments:

Post a Comment