“আমি তো কোন টানেল তৈরি করছি না। আমি কোন স্থাপনাও তৈরি করছি
না। আমার কাজটা তাই তেমন কঠিন কিছু নয়, বরং আনন্দদায়ক। সে অর্থে বেশি কাজ করাটা
উল্টো ভালো বলা যায়”
কথাগুলো মর্গান ফ্রিম্যানের। দিনের পর দিন কাজ করতে করতে
ক্লান্তিবোধ করা নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ভরাট ও কিছুটা রাশভারী কণ্ঠ, ছোট ছোট উচ্চারণে কথা বলা আর
প্রকৃতিগত অভিনয়ক্ষমতা এই মানুষটিকে দিয়েছে একটা অতি উচ্চ আসন। যে আসনে বসে এই
বয়সেও তিনি অবাধে শাসন করে যাচ্ছেন মুভি দুনিয়া। আজকের পোস্ট তাই এনাকে নিয়ে...
নিজের বেকারজীবন নিয়ে করা এক প্রশ্নের উত্তরে ফ্রিম্যান বলেন,
“উল্টাপাল্টা বহু চাকরির মধ্যে আমার কাছে সবচেয়ে বেশি খারাপ লেগেছিল একটা ফুড শপে
কাজ করা। একটা অফিসে ক্লার্ক হিসেবে কাজ করার ঠিক আগেকার ঘটনা এটা। আমি কিছুটা
বেশি বেতন চেয়েছিলাম কিন্তু তারা দিতে রাজি হয়নি। তাই আমি একটা প্রোগ্রামে
ড্যান্সার হিসেবে অডিশন দেই এবং টিকে যাই। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত মাত্র ৩ মাসের
মাথায় প্রোগ্রামটা বন্ধ হয়ে যায়। তখন আমি কফি ও ডোনাট সরবরাহের কাজটা নেই। এক রাতে
ওই প্রোগ্রামে কাজ করাকালীন সময়ের এক কলিগ আসে আমার এখানে। ওকে দেখে টেবিলের নিচে
লুকাতে গিয়েও ধরা পড়ে যাই। তার প্রশ্নের মুখে আমি স্বীকার করি যে অভিনয়ের কাজ
পাচ্ছি না। তখন সে আমাকে বলে যে সে একটা নতুন প্রোগ্রাম তৈরি করতে যাচ্ছে।
জীবনে দুঃখের চাইতে সুখের মুহূর্তই অনেক বেশি বলে মন্তব্য
করেন ফ্রিম্যান। বলেন, আমি কাজ শুরু করেছি ৩০ বছর বয়সের পর থেকে এবং এখনও কাজ
করছি। তাই আমি বলব এখনকার দিনগুলো বরঞ্চ আরও সুখের।
স্যামুয়েল এল জ্যাকসনের সাথে গুলিয়ে ফেলা নিয়ে করা এক
প্রশ্নের জবাবে ফ্রিম্যান বলেন, ডালাসে থাকাকালীন সময়ে একবার এয়ারপোর্টে ট্রানজিটে
ছিলাম আমি। হঠাৎ এক লোক আমার দিকে হেটে এলো। আমি সানগ্লাস আর ক্যাপ পড়া। লোকটা
আমার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো, যতই নিজেকে লুকানোর চেষ্টা করুন জ্যাকসন, আমি আপনাকে
চিনে ফেলেছি। আমি অস্বীকার করলাম যে আমি জ্যাকসন নই কিন্তু লোকটা বিশ্বাসই করল না।
কানের দুল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে ফ্রিম্যান বলেন, যদি আমি
কোন এক অপরিচিত স্থানে মারা যাই তবে কানের দুল বিক্রির মাধ্যমে আমার কফিন যেন কেনা
যায় একারণেই দুলগুলো পড়া।
No comments:
Post a Comment