Saturday, March 12, 2016

মর্গান ফ্রিম্যান ইন্টারভিউ

“আমি তো কোন টানেল তৈরি করছি না। আমি কোন স্থাপনাও তৈরি করছি না। আমার কাজটা তাই তেমন কঠিন কিছু নয়, বরং আনন্দদায়ক। সে অর্থে বেশি কাজ করাটা উল্টো ভালো বলা যায়”

কথাগুলো মর্গান ফ্রিম্যানের। দিনের পর দিন কাজ করতে করতে ক্লান্তিবোধ করা নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ভরাট ও কিছুটা রাশভারী কণ্ঠ, ছোট ছোট উচ্চারণে কথা বলা আর প্রকৃতিগত অভিনয়ক্ষমতা এই মানুষটিকে দিয়েছে একটা অতি উচ্চ আসন। যে আসনে বসে এই বয়সেও তিনি অবাধে শাসন করে যাচ্ছেন মুভি দুনিয়া। আজকের পোস্ট তাই এনাকে নিয়ে...

নিজের বেকারজীবন নিয়ে করা এক প্রশ্নের উত্তরে ফ্রিম্যান বলেন, “উল্টাপাল্টা বহু চাকরির মধ্যে আমার কাছে সবচেয়ে বেশি খারাপ লেগেছিল একটা ফুড শপে কাজ করা। একটা অফিসে ক্লার্ক হিসেবে কাজ করার ঠিক আগেকার ঘটনা এটা। আমি কিছুটা বেশি বেতন চেয়েছিলাম কিন্তু তারা দিতে রাজি হয়নি। তাই আমি একটা প্রোগ্রামে ড্যান্সার হিসেবে অডিশন দেই এবং টিকে যাই। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত মাত্র ৩ মাসের মাথায় প্রোগ্রামটা বন্ধ হয়ে যায়। তখন আমি কফি ও ডোনাট সরবরাহের কাজটা নেই। এক রাতে ওই প্রোগ্রামে কাজ করাকালীন সময়ের এক কলিগ আসে আমার এখানে। ওকে দেখে টেবিলের নিচে লুকাতে গিয়েও ধরা পড়ে যাই। তার প্রশ্নের মুখে আমি স্বীকার করি যে অভিনয়ের কাজ পাচ্ছি না। তখন সে আমাকে বলে যে সে একটা নতুন প্রোগ্রাম তৈরি করতে যাচ্ছে।

জীবনে দুঃখের চাইতে সুখের মুহূর্তই অনেক বেশি বলে মন্তব্য করেন ফ্রিম্যান। বলেন, আমি কাজ শুরু করেছি ৩০ বছর বয়সের পর থেকে এবং এখনও কাজ করছি। তাই আমি বলব এখনকার দিনগুলো বরঞ্চ আরও সুখের।

স্যামুয়েল এল জ্যাকসনের সাথে গুলিয়ে ফেলা নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে ফ্রিম্যান বলেন, ডালাসে থাকাকালীন সময়ে একবার এয়ারপোর্টে ট্রানজিটে ছিলাম আমি। হঠাৎ এক লোক আমার দিকে হেটে এলো। আমি সানগ্লাস আর ক্যাপ পড়া। লোকটা আমার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো, যতই নিজেকে লুকানোর চেষ্টা করুন জ্যাকসন, আমি আপনাকে চিনে ফেলেছি। আমি অস্বীকার করলাম যে আমি জ্যাকসন নই কিন্তু লোকটা বিশ্বাসই করল না।

কানের দুল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে ফ্রিম্যান বলেন, যদি আমি কোন এক অপরিচিত স্থানে মারা যাই তবে কানের দুল বিক্রির মাধ্যমে আমার কফিন যেন কেনা যায় একারণেই দুলগুলো পড়া।  


Saturday, March 5, 2016

আল পাচিনো ইন্টারভিউ - দ্য টকস

পার্সোনালি আমার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে ভাল অভিনেতা আল পাচিনো। অতি মানবীয় অভিনয়, লাইফস্টাইল, জীবনবোধ ইত্যাদির জন্য আল পাচিনো শুধু একটা নাম নয়, এটা একটা আইকন, একটা বিশ্বাস।

বরাবরের মত ফেসবুক ঘাটাঘাটি করতে করতে পেয়ে গেলাম এই মানুষটির একটা ইন্টারভিউ। আজকের পোস্ট সেটা নিয়েই...

পুরো নাম আলফ্রেডো জেমস পাচিনো। আমেরিকার নিউইয়র্কে জন্মগ্রহণ করেন ১৯৪০ সালের ২৫ এপ্রিল।

নিজের এত অর্জন সামলে কিভাবে দিনযাপন করেন, এমন প্রশ্নের জবাবে পাচিনো বলেন, আমি নিজেও জানি না। আসলে জীবনকে যখন আপনি আপনার মত করে উপভোগ করতে চাইবেন, তখন অর্জনের দিকে খেয়াল হয়ত রাখবেন, তবে কম। এটা আমার অভিমত, আপনার সাথে নাও মিলতে পারে। আমি শুধু আমার নিজের কাজটা করে যাচ্ছি। বাকিটা জানি না...

নতুন কিছু করার চেষ্টার ব্যাপারে করা এক প্রশ্নের উত্তরে পাচিনো বলেন, একজন শিল্পীর কাছে সবচেয়ে অবাক করা শব্দ হচ্ছে রিটায়ারমেন্ট। আমি এসবের ধারে কাছেও নেই। যেটা ভাল লাগে, সেটার প্রতি আমার এক ধরণের অনুভূতি কাজ করে। অনেকটা শেক্সপিয়ারের প্রাকৃতিক আয়নার মত।
ক্রিস্টো বলেছিলেন শিল্পীরা রিটায়ার করে না, তাদের শুধু মৃত্যু হয়, এ প্রসঙ্গে পাচিনো বলেন, তবুও কিন্তু শিল্পীদের রিটায়ারমেন্ট হয়েছে। যেমন ধরুন ফিলিপ রথের কথা, লেখালেখি ছেড়ে দেয়ার পর উনি আজ অনেক সুখী। অনেকটা যা খুশি তা করছেন। পজিটিভ অর্থে অবশ্যই। এখানে স্বাধীনতাটা অনেক বড় একটা ব্যাপার।

ডিরেক্টরদের তার প্রতি আকর্ষণ সম্পর্কে পাচিনো বলেন, প্রথম গডফাদার করার আগে কেউ আমাকে চাইত না। কেউ না। শুধু ফ্রান্সিস চাইত। আমি বুঝতাম না কেন সে আমাকে চাইত। যেখানে কেউ আমাকে চেনে না, জানে না, সেখানে ডিরেক্টর আমাকে চাচ্ছে... এটা দেখে আমারও আগ্রহ জন্মায়।

নিজের সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে অভিনয় করার চেষ্টায় ব্যর্থ হওয়া কোন মুভির ব্যাপারে জানতে চাইলে পাচিনো বলেন, ব্যাপারটাকে ঠিক এভাবে না দেখে আমি দেখি ভুল হিসেবে। ভুল কোন একটা মুভি বাছাই থেকে শুরু করে সেখানে অভিনয় করার চেষ্টাও ভুলেরই অংশ। সেদিক থেকে দেখতে গেলে স্টার ওয়ারস আমার জীবনের একটা বড় ভুল।  

Thursday, March 3, 2016

ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান - ডন অভ জাস্টিস মুভি ফ্যাক্টস

ডিরেক্টর
জ্যাক স্নাইডার ধারাটা শুরু করেছিলেন ২০১৩ সালে ম্যান অভ স্টিলের মধ্য দিয়ে। এবং এবারের ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যানের পর জাস্টিস লীগও ডিরেক্ট করার কথা রয়েছে তার।
রাইটার
ক্রিস টেরিও। বেন এফ্লেকের মুভি আর্গওতে স্ক্রিনরাইটার হিসেবে কাজ করেছিলেন। কিন্তু এফ্লেকের আগেই ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান মুভির সাথে যুক্ত হয়েছেন। কমিক বুক স্টোরি অথবা কমিক মুভির সাথে এর আগে কখনই সংশ্লিষ্টতা ছিল না টেরিওর। আরেক রাইটার ডেভিড এস গোয়ের অবশ্য কমিক বুক মুভির সাথে আগে থেকেই জড়িত ছিলেন।
স্টোরি
আসলে আমেরিকার জন্য কেমন সুপারহিরো দরকার? সারা দেশ যখন এই বিতর্কে মত্ত তখন গোথাম সিটির অলিখিত নিয়ন্ত্রক ব্যাটম্যান মুখোমুখি সুপারম্যানের। দুজনের মধ্যকার ব্যাপারটা শুরুর আগেই পটভূমিতে হাজির সুপারভিলেন ডুমসডে। আর এই নতুন বিপদ সামলানোর দায়িত্ব পড়ে ব্যাটম্যান, সুপারম্যান ও ওয়ান্ডার ওম্যানের ওপর।
রিলিজ
২৫ মার্চ ২০১৬। ব্যাটম্যান উপস্থিতির আরেক মুভি সুইসাইড স্কোয়াড রিলিজ পাবে ৫ অগাস্ট। ক্যাপ্টেন আমেরিকা – সিভিল ওয়ারের সাথে ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যানের রিলিজ ডেট আগে ঘোষণা করা হয়েছিল ৬ মে। কিন্তু ওয়ারনারস ডেটটাকে এগিয়ে নিয়ে এসেছে।
চরিত্র
বেন এফ্লেক – ব্যাটম্যান/ব্রুস ওয়েন
হেনরি কাভিল – সুপারমান/ক্লারক কেন্ট
গাল গাদত – ডায়ানা প্রিন্স/ওয়ান্ডার ওমেন
জেসি আইজেনবার্গ – লেক্স লুথর
জেরেমি আইরনস – আলফ্রেড পেনিঅর্থ
হলি হান্টার – সিনেটর ফিঞ্চ
ফিল্মিং লোকেশন
ডিরেক্টর অভ ফটোগ্রাফি ল্যারি ফং। ২০১৩ সালের অক্টোবরে পূর্ব লস এঞ্জেলেসে প্রাথমিক ফিল্মিং শুরু হয়। পরে মে মাসের দিকে শিকাগো, ইয়র্কভিল, ডেট্রয়েট, নিউ মেক্সিকোতে শুটিং হয়। লোকেশনের তালিকায় মরক্কোর নাম থাকলেও ইবোলার প্রাদুর্ভাবে শেষপর্যন্ত বাদ পড়ে।
এবং “আর রেটিং”-এ ডেডপুলের সাফল্যের পর এই মুভিও “আর রেটিং” করার চিন্তা ভাবনা করা হচ্ছে বলে কিছুদিন আগে জানানো হয়েছিল।

Tuesday, March 1, 2016

লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিয় ইন্টারভিউ

বর্তমান দুনিয়ার সবচেয়ে আলোচিত নাম লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিয়। অস্কার পেয়ে তিনি যতটুকু না সম্মানিত হয়েছেন, আমার তো মনে হয় একাডেমি তাকে অস্কার দিয়ে আরও বেশি সম্মানিত হয়েছে।

ফেসবুক ঘাটাঘাটি করতে করতে পেয়ে গেলাম বেশ আগে দেয়া তার এক ইন্টারভিউ। সেই ইন্টারভিউয়েরই চুম্বকাংশ নিয়ে আজকের পোস্ট। 

রোম্যান্টিক কমেডি মুভিতে অভিনয়ের ব্যাপারে করা এক প্রশ্নের জবাবে লিও বলেন, আমি রোম্যান্টিক কমেডি মুভিতে অভিনয় করতে সবসময় আগ্রহী। কিন্তু তাই বলে যে আমাকে একই জনরায় কাজ করে যেতে হবে এমনও তো কথা নেই। কোন স্ক্রিপ্ট পছন্দ হলে তা পড়ার পর সাধারণত আমি বলেই দেই যে আমি এই গল্পের আবেগের সাথে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছি। কি কালচার অথবা কি ইতিহাস, আমার কাছে গৌণ বিষয়।

প্রতিটা মুভিতে নিজের কাজের মধ্য দিয়ে নিজেকেই একরকম চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়ার ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে লিও বলেন, এটা আসলে চরিত্রের ওপর নির্ভরশীল। চরিত্রের জন্য ভাল উপাদান খুঁজে বের করাটা অনেকটা যুদ্ধের মত। আর ভাল উপাদানের ওপর সবারই চোখ থাকে। বছরের পর বছর ধরে এই উন্নয়ন সাধিত হয়। তবে গল্পের ভেতর কোন ফাঁকফোকর থাকলে মুভি ফ্লপ করবে এটা নিশ্চিত।

বিশ্বসেরা সব ডিরেক্টরদের সাথে কাজ করা নিয়ে লিও বলেন, এখনও এমন অনেক ডিরেক্টর রয়েছেন যাদের সাথে কাজ করতে আগ্রহী আমি। পল থমাস এন্ডারসন, অ্যাং লি, ইনারিতুর মত ডিরেক্টররা আমার পছন্দের তালিকায় থাকবেন সবসময়। নোলান, স্পিলবার্গ, ইস্টউড, মেন্ডেস, বয়েল, ক্যামেরন এরাও থাকবেন আমার তালিকায়।


মুভি জগত ছেড়ে অন্যকিছু করার কথা ভেবেছেন কিনা জানতে চাইলে লিও বলেন, একদিন চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু মুভি আমার ভালোবাসা, প্রেম। ছোটবেলায় দেখা স্বপ্নের মত করেই কিন্তু আমরা আমাদের জীবনটাকে গড়ে তোলার চেষ্টা করি। সে মোতাবেক আমার স্বপ্ন ছিল অভিনয়। এবং এজন্য বাবা-মাকে পর্যন্ত আমি জোর করেছি।